মিনাখাঁর ধর্মগাজন উৎসব ৩০০ বছরের প্রাচীন 



  তিন শতাব্দীর ঐতিহ্যের শিব ও শীতলা মন্দিরের ধর্মগাজন মহোৎসবে ভক্তসমাগমে মুখরিত গ্রামাঞ্চল। মিনাখাঁর একটি ছোট্ট জনপদ হরিণহুলা। কিন্তু এই গ্রামের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে বহুদূর, কারণ এখানে রয়েছে প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো শিব ও শীতলা মন্দির, যেখানে প্রতি বছর এসময় আয়োজিত হয় ধর্মগাজন মহোৎসব। ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকাচার মিলে এই উৎসব হয়ে উঠেছে গ্রামীণ বাংলার সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন। এই গাজন উৎসব মূলত এক ধরণের মানতের পুজো। জনবিশ্বাস অনুযায়ী, প্রাচীনকাল থেকে যখন গ্রামবাসীরা কোনও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হতেন বা দুর্দিনে পড়তেন, তখন তাঁরা মহাদেব ও শীতলার কাছে মানত করতেন। সেই মানত পূর্ণ হলে, তাঁদের উদ্দেশে বিশেষ পুজো ও উৎসবের আয়োজন করতেন। সেই ঐতিহ্যই রূপ নিয়েছে আজকের এই ধর্মগাজন মহোৎসবে, যা প্রায় ৩০০ বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে।




   এই গাজন চৈত্রের সংক্রান্তিতে নয়, আয়োজিত হয় বৈশাখের সংক্রান্তিতে।উৎসবের প্রথম দিন ভোরবেলা থেকেই গ্রামে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। সন্ন্যাসীরা সারিবদ্ধভাবে মন্দির চত্বর সংলগ্ন পুকুরে গিয়ে জলস্নান করেন। এর পর তাঁরা মন্ত্রপাঠ ও শিবের নামগান করতে করতে মন্দির প্রাঙ্গণে এসে অংশগ্রহণ করেন ‘ত্রিশূল ঝাঁপ’-এর মতো সাহসী আচার-অনুষ্ঠানে। এই দৃশ্য দেখতে আশপাশের বহু গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও রয়েছে।

Comments

Popular posts from this blog

পায়রাডাঙ্গায় চিত্র প্রদর্শনী

বালির নামকরণের ইতিহাস

বছরের প্রতিটি দিনই হোক পরিবেশ দিবস