সৌজন্য সাক্ষাতে কাঁচের মন্দিরে
তিনি তখন ছিলেন বালি ইংলিশ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। সেই সময় নগেন্দ্রনাথ ভাদুড়ী, দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ আছে 'COMPANIONS AND FOLLOWERS OF RAMAKRISHNA' গ্রন্থটিতে।
পরমহংস যোগানন্দের আত্মজীবনীর সূত্রে যিনি সারা পৃথিবীতে "The Levitating Saint" - নামে সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সেই নগেন্দ্রনাথ ভাদুড়ী অর্থাৎ ভাদুড়ী মহাশয়ের মহাপ্রয়াণ ঘটে ১৯২৬-এ। নিজে সিদ্ধ যোগী হলেও মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ ভক্তি মার্গের প্রাধান্য সর্বদা স্বীকার করেছেন।
মহর্ষিদেবের সাধন জীবনে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের এই প্রভাব স্মরণে রেখে মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের প্রয়াণের শতবর্ষের প্রাক্কালে কলকাতার শ্রীশ্রী নগেন্দ্র মঠ এবং নগেন্দ্র মিশনের পক্ষ থেকে গত ১২ জুলাই বরানগর কাঁচের মন্দিরে "ভক্তিযোগ প্রচারের উদ্দেশ্যে" এলেন মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের প্রপৌত্রী শিবানী ভট্টাচার্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পুত্র ড. শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই কাঁচের মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাতা হলেন শ্রীমৎ স্বামী সত্যানন্দদেব। ভক্তদের কাছে তিনি পরিচিত শ্রীঠাকুর নামে। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের বারো জন লীলা পার্ষদের মধ্যে অন্যতম স্বামী অভেদানন্দ। স্বামী অভেদানন্দের সুযোগ্য শিষ্য হলেন শ্রীঠাকুর সত্যানন্দদেব। অরুণ কুমার লিখিত 'মণি মন্দিরের ইতিবৃত্ত' গ্রন্থ থেকে জানা যায় - একবার রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের অসুস্থতার সময় কেশবচন্দ্র সেন মন্তব্য করেছিলেন, এই রকম পবিত্র শরীরকে কাঁচের ঘরে রাখা দরকার। সেই সূত্র ধরেই এই কাঁচের মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন স্বামী সত্যানন্দদেব।
১৯৩৯ সালে লীলা প্রকাশের পর ১৯৪৬ সালে সত্যানন্দদেব প্রথম কলকাতার বরানগরে আসেন। তাঁর পূর্বাশ্রমের ভগ্নিপতি রামচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজস্ব বাগানবাড়ি শ্রীঠাকুরের নামে উৎসর্গ করেন। এটিই শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম, বরানগর। অবশ্য ভক্তজনের কাছে এই মন্দিরের প্রসিদ্ধি কাঁচের মন্দির হিসেবেই।
এ দিনের সৌজন্য সাক্ষাতে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমের প্রেসিডেন্ট মহারাজ স্বামী সত্যপ্রকাশানন্দের হাতে তুলে দেওয়া হয় মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ ভাদুড়ীর জীবনী ও তাঁর লিখিত গ্রন্থাবলী।
স্বামী সত্যপ্রকাশানন্দ জানান, মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের সংস্পর্শে এসেছিলেন। মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের এই ভাবধারা প্রচারের চেষ্টা সত্যিই ভালো।
------------
স্থির চিত্র সৌজন্যে : শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম, বরানগর। শ্রীশ্রী নগেন্দ্র মঠ এবং নগেন্দ্র মিশন, কলকাতা।




Comments
Post a Comment