পূর্ব বর্ধমানের সুফি আলম মুন্সীর নেশা বট গাছ রোপণ করা

 

পূর্ব বর্ধমানের সুফি আলম মুন্সীর নেশা বট গাছ রোপণ করা


  মানুষের যে কত বিচিত্র সব নেশা। কিছু নেশা আছে, যা মানুষ তথা সমাজের অনেক উপকার করে। তেমনই এক ভালো নেশায় পেয়েছে খান্ডকোষের সুফি আলমের। পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের কুঞ্জনগর গ্রামের বাসিন্দা সুফি আলম মুন্সীর নেশা বট গাছ রোপণ করা। তবে শুধু বট গাছ রোপণ করে তিনি ছেড়ে দেন না। নিয়মিত গাছের যত্ন নেন এবং নির্দিষ্ট কারও হাতে সেই গাছের দেখভালের দায়িত্বও তিনি তুলে দেন। ২০১৯ সাল থেকে তিনি এই বট গাছ রোপণ করে চলেছেন। এখনও পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমান জেলা সহ গোটা রাজ্যে ৫১০ টি বট গাছ লাগিয়েছেন মুন্সী বাবু। তবে কীভাবে এমন এক নেশায় আসক্ত হয়ে পড়লেন মুন্সী বাবু ? তার এই নেশা শুরু হয়েছে কর্মসূত্রে তাকে কিছু গাছ কাটতে হয়েছিল, সেখান থেকেই।


  এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি বিদ্যুৎ দফতরের মোবাইল ভ্যানের কর্মী। বিভিন্ন সময় আমাদের জনবহুল এলাকায় হাইটেনশন লাইনের নিচে বা পাশে যে সমস্ত গাছ থাকে তাদের ডাল ছাঁটতে হয়। সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয়েছিল আমরা গাছ ছাঁটছি বেশি লাগাচ্ছি কম। সেই থেকেই বটগাছ রেসকিউ করে রোপন করার চিন্তাভাবনা শুরু করেছি।”মুন্সী বাবু যখন বাড়ি থেকে অফিসে যান তখন মোটরসাইকেলের মধ্যেই ঝোলানো থাকে বোতল ভর্তি জল। অফিস যাওয়ার পথে তার বসানো বিভিন্ন গাছে তিনি জল দেন। একইরকম ভাবে আবার বাড়ি ফেরার পথেও তিনি একই কাজ করেন। গাছের পরিচর্যা করা মুন্সী বাবুর নেশায় পরিণত হয়েছে। তবে তিনি গাছ কেনেন না। পুরানো বাড়ির দেওয়াল অথবা যেকোনও পরিত্যক্ত জায়গায় গজিয়ে ওঠা বটের চারা তিনি সংগ্রহ করেন এবং তারপর সেই চারা বড় করে তিনি নির্দিষ্ট জায়গায় রোপণ করেন। মুন্সী বাবুর এই বটগাছের প্রতি ভালোবাসা দেখে এখন বর্ধমান শহরের অনেকেই তাকে ডাকেন বটমুন্সী নামে।

Comments

Popular posts from this blog

পায়রাডাঙ্গায় চিত্র প্রদর্শনী

বালির নামকরণের ইতিহাস

বছরের প্রতিটি দিনই হোক পরিবেশ দিবস