শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠে পালিত হল স্বাধীনতা দিবস

নিউজ আজকাল 24 ডিজিটাল ডেস্ক:

তিনি আত্মনিয়োগ করেছিলেন সনাতন ধর্মের প্রচার এবং প্রসারে। কিন্তু সেই কাজ করতে গিয়ে তিনি বুঝেছিলেন পরাধীন দেশে ধর্মের প্রকৃত বিকাশ কার্যত অসম্ভব। তাই মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ ছাত্রদের হৃদয়ে বপন করতে চেয়েছিলেন দেশাত্মবোধের বীজ। সেই ধারাই বহন করেছিলেন তাঁর মানসপুত্র ধ্যানপ্রকাশ ব্রহ্মচারী।

স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় যে ভিত্তিভূমি - তার ভিত্তি শিক্ষা। জনাই ট্রেনিং হাই স্কুল এবং বালি ইংলিশ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করার সময় এমন উপলব্ধিতেই পৌঁছেছিলেন তিনি। সেই কারণেই ছাত্রদের চরিত্র গঠন এবং তাদের মধ্যে দেশাত্মবোধের বীজ বপন করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি শ্যামবাজার অঞ্চলে স্থাপন করেছিলেন পেট্রিয়টিক ইনস্টিটিউশন নামে একটি স্কুল। কলকাতার বিধান সরণি ও কৈলাস ঘোষ স্ট্রিটের সংযোগস্থলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পেট্রিয়টিক লাইব্রেরী। এখানে শুধু ভারতীয় এবং আধুনিক ভাবধারার শিক্ষাই দেওয়া হতো না, দেশাত্মবোধেও দীক্ষিত করা হতো ছাত্রদের।


                                                                ফটো নিজস্ব 

মহর্ষি নগেন্দ্রনাথের এবং পরবর্তী সময়ে ধ্যানপ্রকাশ ব্রহ্মচারীর এই ধারা অবলম্বন করে শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠ এবং নগেন্দ্র মিশনে আবাসিক ছাত্রদের দিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে এক নতুন মাত্রা আনেন মঠের প্রাক্তন আচার্য ডঃ রঘুপতি মুখোপাধ্যায়। তিনি প্রয়াত হলেও সেই ধারা আজও বহন করছেন মঠের আবাসিক ছাত্ররা।

১৫ আগস্ট পতাকা উত্তোলন পর্বের পর সান্ধ্য অনুষ্ঠানে ছিল দেশাত্মবোধক সংগীত। সমবেত দেশাত্মবোধক সংগীত পরিচালনায় ছিলেন রাজা মুখোপাধ্যায়। বিভিন্ন পর্ব ভিত্তিক সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন নগেন্দ্র মিশনের কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় ভট্টাচার্য। সহযোগিতায় ছিলেন শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠের কোষাধ্যক্ষ দেবাশিস বোস।

এ প্রসঙ্গে শ্রীশ্রীনগেন্দ্র মঠের সম্পাদক ডঃ রবীন্দ্রনাথ কর জানান, ‘ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্রে মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ ছাত্রদের চরিত্র গঠনে যে ভূমিকা নিয়েছিলেন তা ভোলার নয়। তাই আজও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ছাত্রদের মাধ্যমেই করা হয়।’ 

মহর্ষিদেবের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর প্রপৌত্রীর পুত্র ডঃ শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘মহর্ষি নগেন্দ্রনাথ এবং ধ্যানপ্রকাশ ব্রহ্মচারী স্বাদেশিকতার প্রচার এবং প্রসারে যে ভূমিকা নিয়েছিলেন সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করেই মঠে পালিত হয় স্বাধীনতা দিবস। এ বছরও সেই ধারার উত্তরাধিকার বহন করা হয়েছে।’

Comments

Popular posts from this blog

পায়রাডাঙ্গায় চিত্র প্রদর্শনী

বালির নামকরণের ইতিহাস

বছরের প্রতিটি দিনই হোক পরিবেশ দিবস