ধুবুলিয়ায় মানবাধিকার দিবসে ১০০ দিনের কাজের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ মিছিল
বিশ্ব মানবাধিকার দিবসের দিনেই নদীয়ার ধুবুলিয়ায় ১০০ দিনের কাজ পুনরায় চালুর দাবিতে বিক্ষোভে সরব হলেন কৃষক ও গ্রামীণ শ্রমিকেরা। এনআরইজিএ সংঘর্ষ মোর্চার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই মিছিলে অংশ নেন শতাধিক শ্রমজীবী মানুষ। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য “কেন্দ্র বা রাজ্য কে দিচ্ছে, কে দিচ্ছে না সেটা আমরা জানি না, আমাদের প্রাপ্য ১০০ দিনের কাজ চাই।”
প্রায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের টানাপোড়েনের মাঝে প্রকৃত অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ শ্রমিকরা। কেন্দ্রের দাবি রাজ্য হিসেব দিচ্ছে না, আর রাজ্যের দাবি কেন্দ্র তহবিল আটকে রেখেছে এই দোষারোপে আটকে পড়েছেন গ্রামের দরিদ্র মানুষ।
এআইসিসিইউ নদীয়া জেলা সম্পাদক জীবন কবিরাজ জানান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে এই আন্দোলন করার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তিনি বলেন, “মানবাধিকারের প্রধান শর্ত হলো কাজ ও খাদ্য। দুহাতে কাজ আর পেট ভরে ভাত পাওয়ার অধিকারই মানুষের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকারই আজ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। দেশের শ্রম আইনগুলোকে চারটি শ্রম কোডে আটকে দিয়ে শ্রমিকদের নানান সুবিধা খর্ব করেছে কেন্দ্র সরকার। একই সঙ্গে গ্রামীণ শ্রমিকরা ১০০ দিনের কাজ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের জীবিকা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ধুবুলিয়ার এই বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন মিছিলকারীরাও। তাদের দাবি, হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই রায় দিয়েছে গত ১ এপ্রিল থেকে মানুষের স্বার্থে ১০০ দিনের কাজ পুনরায় শুরু করতে হবে। কিন্তু সেই রায় মানার বদলে সরকার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করছে।
আজকের মিছিল থেকে সকলকে আগামী ২৩ ডিসেম্বর রাজভবন অভিয়ানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনের নেতারা জানান, ১০০ দিনের কাজ তাদের জীবনের ভরসা। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। মানবাধিকার দিবসের এই দিনে ধুবুলিয়ার কৃষক ও শ্রমিকদের কণ্ঠে তাই একটাই দাবি “রাজনীতি নয়, আমাদের প্রাপ্য কাজ ফেরত চাই।”
Comments
Post a Comment